মহাষষ্ঠীতে বোধনে দেবীবরণ, শুরু দুর্গাপূজা

দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শাস্ত্রীয় পঞ্জিকামতে, এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার সন্ধ্যায় বেলগাছতলে (বিল্ববৃক্ষ) আবাহন ও সংকল্পের মাধ্যমে ‘ত্রিনয়নী’ দেবী দুর্গার ঘুম ভাঙিয়ে পূজার্চনায় তাকে বরণ করা হবে। এ সময় ঢাকের বোল, চণ্ডীপাঠ, কাঁসর-ঘণ্টা ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে পবিত্রতা রক্ষায় শাস্ত্রীয় মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অধিবাস সম্পন্ন করা হয়।

তিথির বিশেষ গণনায় এবার মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে দুই দিন—আগামীকাল শনিবার ও রবিবার। এতে দেবীর রূপক ৯টি উদ্ভিদ স্নান করিয়ে ‘নবপত্রিকা’র আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। এরপর সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে ছয় দিনের এ উৎসব। দুর্গোৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে তিন দিনের বর্ধিত ছুটিসহ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দর্শনার্থীরা মোট পাঁচ দিনের (২০-২৪ অক্টোবর) ছুটি উপভোগ করবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার বেশি।

উৎসব নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে ঢাকাসহ দেশজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া এসআরবি ফোর্সেস সারা দেশে আড়াই হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে।

বাহিনীটির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ নিশ্চিত করেছেন, পূজা ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই। একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসন গুজব থেকে সতর্ক থাকা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি পাঁচ দফা নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের।