চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক সাংবাদিককে জিম্মি করে মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরের বৌ-বাজার ও বড়পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হালিশহর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবুল হোসাইন।
আবুল হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। বুধবার বিকেলে হালিশহরের রমনা আবাসিক এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাকে জিম্মি করে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে জোর করে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বৌ-বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেনকে (২৬) এবং বড়পুল এলাকা থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, মামলা হওয়ার পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে। পরে অবৈধ কাজে সেখানে উপস্থিত হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন সড়কে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁর পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর আদায় করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ০১৩৫২০২৬৭১১ নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫টা ৪৬ মিনিটে একই নম্বরে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ৬টায় ০১৯৭৭৭২৮৪৬০ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৬টা ৩ মিনিটে ০১৮৫৯৯৭৬৮৯১ নম্বরে চার হাজার ৮০০ টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। সব মিলিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে তার হাতে কনডমের প্যাকেট ধরিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে সেসব বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে বা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে জিম্মি করা হয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও বিকাশ থেকে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে জোর করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় মামলা করেছেন তিনি। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও হাতিয়ে নেওয়া টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রমনা আবাসিক এলাকার পেছনের নির্জন স্থানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। চক্রটি পথচারীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অনেকে থানায় অভিযোগ করেন না। ফলে এসব অপরাধের ঘটনা অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না। চক্রটির কাছে এলাকার বাসিন্দারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।