ফরিদপুরে ৭৮১ মণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু, ঢাকের তালে মুখরিত পূজামণ্ডপ

ফরিদপুরে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, কাঁসর, উলুধ্বনি ও পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। এ বছর জেলায় ৭৮১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমন অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এর সঙ্গে অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কার কথাও প্রচলিত রয়েছে।

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সন্ধ্যায় বিল্ববৃক্ষতলে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। দেবী দুর্গার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে অধিষ্ঠিত হয়েছেন দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, ভগবান গণেশ ও কার্তিক।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

দুর্গাপূজা ঘিরে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আনন্দ-উৎসবে মেতেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে।

এদিকে, দুর্গাপূজা ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আনসার, পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।