৭১ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান পদে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছে পাকিস্তান। ২০২৭ সালের জন্য সংস্থা দুটির বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান হিসেবে দেশটিকে মনোনীত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংকে দেশটির গভর্নর আহাদ খান চিমাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তান এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন। এতে বিশ্বের ১৯১টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতাসহ ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকট, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ দায়িত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও উন্নয়নবিষয়ক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা রাখার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করা সম্ভব হবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে গুরুত্ব

নতুন দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের করপোরেট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন আহাদ খান চিমা। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও করপোরেট সচিব আরাধনা কুমার-কাপুরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। সেখানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বিদায়ী চেয়ারম্যান ও প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কার্লোস কারভাল্লো স্পালডিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চিমা। বৈঠকে বিদায়ী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি আগামী মেয়াদের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামত ও অংশগ্রহণ বাড়ানো, উন্নয়ন অর্থায়নে কার্যকারিতা ও অর্থপ্রাপ্তির পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন পাকিস্তানের মন্ত্রী। পাশাপাশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চিমা। তাঁর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে অবদান রাখা।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

এদিকে, ব্যাংককে চলমান বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে তাঁদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ হয় বলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওরঙ্গজেব। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি।

আইএমএফের সঙ্গে ৮৪০ কোটি ডলারের কর্মসূচি

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান বর্তমানে আইএমএফের দুটি কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং ১৪০ কোটি ডলারের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) রয়েছে। সব মিলিয়ে কর্মসূচি দুটির পরিমাণ ৮৪০ কোটি ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে ইএফএফের চতুর্থ এবং আরএসএফের তৃতীয় পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তান ও আইএমএফের কর্মকর্তারা কর্মীপর্যায়ে সমঝোতায় পৌঁছান। এর ফলে সংস্থাটির কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে দেশটি।

সূত্র: ডন