ঈশ্বরগঞ্জে পিকআপে মিলল চোরাই ৪ গরু, গ্রেপ্তার ৪

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় একটি পিকআপ থেকে চারটি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

পুলিশের দাবি, গরুগুলো চোরাই জেনেও কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জে নেওয়া হচ্ছিল।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৬টা ৫ মিনিটের দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের আশ্রবপুর পূর্বপাড়া এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে একটি নির্মাণাধীন মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গরুবোঝাই নীল রঙের একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শরিফ (৪২), মো. জসিম উদ্দিন (৩০), মো. মানিক মিয়া (২৮) ও মো. ইমন মিয়া (২৭)। তাঁদের সবার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চেকপোস্টে চারটি গরুবোঝাই পিকআপকে থামার সংকেত দিলে গাড়ি থেকে একজন নেমে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পিকআপে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পুলিশের। একপর্যায়ে তাঁরা গরুগুলো মোহনগঞ্জ এলাকার এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে কম দামে কেনার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গরুগুলো কিশোরগঞ্জে নিয়ে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনায় শুক্রবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে চারটি গরু ও পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা চারটি গরুর আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা গরু ও পিকআপের মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।


ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, “চোরাই গরু কেনাবেচা ও এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চেকপোস্টে তল্লাশির মাধ্যমে চারটি গরু ও পিকআপ উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”