বীমায় আস্থা বাড়লে মানুষের আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে

‘স্মার্ট অর্থনীতি’ বাস্তবায়নে বীমা খাত কীভাবে অবদান রাখছে?

স্মার্ট অর্থনীতি গঠনে বীমা খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক বিপদের মুখে পড়তে না হয়। জীবন বীমা মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমার দৃষ্টিতে, জীবন বীমাকে কেবল মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট অর্থ পাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায় না। জীবন বীমার মূল দর্শন হলো একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু বা বিপদের সময় তার পরিবার ও সন্তানদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করা। অন্যদিকে বীমা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা, দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা আর্থিক

অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে পারে। আমরা ইসলামী মূল্যবোধ, আধুনিক প্রযুক্তি ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিশ^াস করি, মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শক্তিশালী হবে।

দেশে বীমার প্রসার বাড়াতে আপনার কোম্পানির মূল কৌশল কী?

দেশে বীমার প্রসার বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান কৌশল হলো মানুষের কাছে পৌঁছানো, বীমা সম্পর্কে সচেতনতা  তৈরি করা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। আমরা মনে করি, বীমা খাতের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল পলিসির সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনে বীমার বাস্তব উপযোগিতা পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জীবন বীমার মূল পলিসির পাশাপাশি বিভিন্ন পরিপূরক পলিসি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা গ্রাহকের আর্থিক সুরক্ষাকে বিস্তৃত করতে সাহায্য করে। এসব পলিসি মূল বীমা পলিসির সঙ্গে অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে যুক্ত করা যায়। এর ফলে পলিসির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হলে বীমা কোম্পানি থেকে গ্রাহক আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। এর ফলে বিপদের সময়ে চিকিৎসা ব্যয়, আয় কমে যাওয়া বা পরিবারের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ মোকাবিলায় সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়। আমরা মনে করি, গ্রাহকদের কেবল মূল জীবন বীমা সম্পর্কে নয়, বরং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরিপূরক পলিসির সুবিধা সম্পর্কেও সচেতন করা জরুরি।

দেশব্যাপী শাখা নেটওয়ার্ক ও মাঠপর্যায়ের উন্নয়নকর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে আমরা জীবন বীমার সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। উন্নয়নকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাহককে পলিসির সুবিধা, শর্ত ও দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো গ্রাহকসেবাকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দেওয়া। নিজস্ব মোবাইল অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি দাবি নিষ্পত্তিতে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।

গ্রাহকসেবা সহজ করতে আপনারা কী ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছেন?

বর্তমান সময়ে বীমা খাতকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিজস্ব মোবাইল অ্যাপস এবং ওয়েবসাইটভিত্তিক ডিজিটাল সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসে তাদের বীমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন। আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকরা নিজস্ব অ্যাকাউন্টে লগইন করে তাদের পলিসির বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারেন, প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন এবং প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পরপরই অনলাইন রসিদ দেখতে পারেন। প্রয়োজনে সেই রসিদ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করেও সংরক্ষণ করতে পারেন। এ ছাড়া নতুন বীমা পলিসি গ্রহণে ইচ্ছুক গ্রাহকরা অনলাইনের মাধ্যমে নতুন পলিসির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বীমাসেবা পৌঁছে দিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে জীবন বীমার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। মাঠপর্যায়ের উন্নয়নকর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা থেকে থানা, থানা থেকে ইউনিয়ন এবং বড় বাজার পর্যায় পর্যন্ত অফিস ও সেবাকেন্দ্র সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহক ও উন্নয়নকর্মীদের জন্য সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে আপনার কোম্পানির লক্ষ্য বা ভিশন কী?

আগামী পাঁচ বছরে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিকে বাংলাদেশের জীবন বীমা খাতের অন্যতম সেরা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চাই।