আজ শনিবার মহাসপ্তমী। এর মাধ্যমে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। গত শনিবার মহালয়ার দিনে মর্ত্যেেলাকে দেবী দুর্গার আগমনের মধ্য দিয়ে যে পুণ্য লগ্ন ও দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছিল, গতকাল মহাষষ্ঠীতে দুর্গা দেবীর জাগরণ (বোধন), আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এখন ম-পে ম-পে চলছে মহামায়া দুর্গা দেবীর আবাহন, পূজার্র্চনা ও প্রার্থনা।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে গতকাল বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আবদ্ধ হন সৌহার্দ্যরে বন্ধনে। মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’
গতকাল ষষ্ঠীতে বেলগাছতলে (বিল্ববৃক্ষ) দেবীর আবাহন, সংকল্প ও ‘ত্রিনয়নী’ দুর্গার নিদ্রা ভাঙিয়ে তাকে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার্চনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। আজ ঢাকঢোল কাঁসর বাজিয়ে দশভুজা দেবী তিথিবিহিত পূজা শেষে সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহাসপ্তমীতে ‘নবপত্রিকা’র আনুষ্ঠানিকতা পালন হয়। দুর্গা দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়। এরপর ষোড়শ উপাচার (১৬ উপাদানে) অর্থাৎ আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন এরকম উপাদান দিয়ে দেবীকে বরণ ও পূজার্চনা করা হবে। পূজার্চনার পর দেবীর কৃপালাভের আশায় তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা।
মহাসপ্তমীর দিন থেকে সারা দেশের পূজাম-পগুলোতে মানুষের পদচারণা বাড়বে। এবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে তিথির সম্পর্কের কারণে মহাসপ্তমী পূজা হবে দুই দিনে। সে হিসেবে আগামীকাল রবিবারও মহাসপ্তমী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার মহাষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী ও বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান উৎসব। দুর্গোৎসব চলাকালীন কয়েকদিন সারা দেশের ম-পগুলোতে পূজার্চনা ও পুষ্পাঞ্জলির পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতাসহ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে আয়োজক কমিটিগুলো।
গতকাল ঢাকার লালবাগস্থ ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দিরে সকালে ও সন্ধ্যায় দুর্গা দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বেলতলায় দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা হয়। এরপর মন্ত্রপাঠ করে দেবীর উদ্দেশে পুষ্পাঞ্জলি দেন উপস্থিত ভক্তরা। এ সময় ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চ-ীপাঠে মুখর হয়ে উঠে মন্দির অঙ্গন। এ ছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ ম-প, পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।