অনলাইনে চুয়েট উপাচার্যের সিন্ডিকেট সভা, ৯ জনই অনুপস্থিত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ডাকা জরুরি অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় ১৫ জন সক্রিয় সদস্যের মধ্যে ৯ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে উপাচার্য অনলাইনে এই ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা পরিচালনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির মধ্যে চুয়েটের অভ্যন্তরীণ সব শিক্ষক প্রতিনিধি এই সভা বর্জন করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার এ অনলাইন সভায় সিন্ডিকেটের ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ৬ জন উপস্থিত ছিলেন। সিন্ডিকেটে উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির বাকি ছয় সদস্যের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল হাসান। সে দিন বেলা ১২টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেয়।

পরের দিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান উপাচার্য। সে দিন রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন উপাচার্য। এরমধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন তিনি।

অনলাইনে হওয়া সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যায়ের ছয় সদস্যের কেউ উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সিন্ডিকেট সদস্য এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ছুটিতে আছি এবং পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামের বাইরে আছি। তিনি (উপাচার্য) হোয়াটস অ্যাপে জুম মিটিং এর লিংক পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভার কথা জানিয়েছিলেন। ছুটিতে থাকায় ও পারিবারিক কাজ থাকায় আমি সভায় অ্যাটেন্ড করতে পারিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক রাশিদুল বলেন, সিন্ডিকেটে সদস্য হিসেবে আছি দুই বছর ধরে। এর আগে কখনো অনলাইনে সিন্ডিকেট সভার নজির নেই।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে উপাচার্য ফোন ধরেননি। তবে অধ্যাপক শরীফুল আলম হোয়াটসঅ্যাপে সিন্ডিকেট সভার আলোচ্যসূচি ও তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি জানান, সভায় সিন্ডিকেটের মোট ছয় জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ সদস্য পদ মোট ১৭টি। এর মধ্যে সহ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ দুটি শূন্য। বাকি ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

শরীফুল আলম লিখিত বার্তায় জানান, সভার আলোচ্য সূচি ছিল- চুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যালোচনা করে একাডেমিক অচলাবস্থা দূর করা এবং শ্রেণিকক্ষ কেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর রূপরেখা নির্ধারণ।

সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, চলমান অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত হওয়ায় এবং সেশন জটের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সিন্ডিকেট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অবিলম্বে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে ফেরত আসার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ফেরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনদের (শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রতিনিধি) নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয় সিন্ডিকেট সভায়।

পাশাপাশি অচলাবস্থা নিরসনে ও অনতিবিলম্বে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে একটি ‘নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।