কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি: ব্যাট হাতে দ্রাবিড় ও শেবাগপুত্রের ঝড়

ক্রিকেট ময়দানে তাঁদের বাবাদের নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জমাট রক্ষণ, ধৈর্য কিংবা বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেওয়ার রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি। সময় গড়িয়েছে, আর এখন সেই কিংবদন্তিদের ছায়াকে সঙ্গী করেই ভারতীয় ক্রিকেটের আঙিনায় নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করতে শুরু করেছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা। 

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্বে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়ের ছোট ছেলে অন্বয় দ্রাবিড় এবং বীরেন্দর শেবাগের ছেলে আর্যবীর শেবাগ। একদিনের ব্যবধানে দুই তরুণ তুর্কির এমন নান্দনিক ও বিধ্বংসী ইনিংস এখন ভারতীয় ক্রিকেটের আলোচনায়।

বাবা রাহুল দ্রাবিড়ের ক্রিকেটীয় দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উইকেটে আঁকড়ে থাকার মানসিকতা। সেই সুশৃঙ্খল মানসিকতার দারুণ এক প্রতিফলন ঘটিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী কর্ণাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক অন্বয় দ্রাবিড়। গুজরাটের দেওয়া ৩৫৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যখন দলের একে একে উইকেট পতন ঘটছে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে উইকেটে আসেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। 

কর্ণাটকের উদ্বোধনী জুটি দ্রুত ফিরলেও সতীর্থ ধ্রুব কৃষ্ণনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অন্বয়। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ২০৪ রানের বিশাল এক জুটি, যা ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। ধ্রুব আউট হওয়ার পর অনিকেত রেড্ডির সাথেও আরও একটি কার্যকর জুটি উপহার দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত থামার আগে ১০০ বল মোকাবিলা করে ২০টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৫১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটের জয় এনে দেন অন্বয়।

এর আগের ম্যাচেই দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাত্র ৪১ বলে ৮৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন এই তরুণ। চলতি বছর ভারতের যুব দলের জার্সিতে খেলা ৪টি ওয়ানডেতে ১৪৮ রান করা অন্বয় বোঝালেন তিনি কেবল ধৈর্যশীলই নন, সুযোগ পেলে আক্রমণাত্মক হতেও জানেন।

এদিকে বাবার মতোই বাইশ গজ কাঁপিয়ে যাচ্ছেন বীরেন্দর শেবাগের ছেলে আর্যবীর শেবাগ। দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চণ্ডীগড়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার। বাবার মতোই বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তার প্রধান কাজ।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ এক ভিত্তি এনে দিয়েছিলেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। দলীয় ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন আর্যবীর। উইকেটকিপার অভিরাজ ও পরবর্তীতে শান্তনু যাদবকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জুটি। শেষ পর্যন্ত ৪৬তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৪৩ বল খেলে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কার মারে ১৭৩ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুব সিরিজেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন এই ওপেনার, যেখানে তিন ম্যাচে করেছিলেন ১০৯ রান।