কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন 'টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট'-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম এবং চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা ফারিহা কবির ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ রয়েছেন। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ করছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কাঠ দিয়ে নির্মিত নয় কক্ষের ওই রিসোর্টে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দে আগুনের সূচনা হয় এবং দ্রুত পুরো ভবনে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের আট সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সন্ধান চালানো হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি জানান, ভবনটি কাঠে তৈরি হওয়ায় আগুন নেভানো ও ভেতরে দগ্ধ অংশ থেকে মরদেহ উদ্ধারে তাদের চরম বেগ পেতে হয়েছে।
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ রিসোর্টটির কোনো অনুমোদন ছিল না উল্লেখ করে বলেন, ‘গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপরও রিসোর্টটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।