কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ঢাবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের ইনানিতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান নাফিজ তেহামী।

নাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে তারা টুপটুপ রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের মোট নয়জন সেখানে ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে নাফিজ তেহামী, তার বোন মেলিতা মেহেজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাবিলা, মালিহা মিলা, নাফিস তেহামী (জেরিফ), সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহাম্মেদ মারা গেছেন।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

এক শোকবার্তায় সাদিক কায়েম বলেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।’

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।