জিম্বাবুয়ের কাছে শোচনীয় হার বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই হোঁচট খেল বাংলাদেশ। শনিবার আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছেন তাওহীদ হৃদয়রা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে সিকান্দার রাজার দল। জবাব দিতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এর আগে গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরাজয় দিয়ে শুরু হলো হৃদয়দের।

ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে আসে লিটন দাসের ছিটকে যাওয়া। ডান নিতম্বের জয়েন্টে চোটের কারণে পুরো ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক। তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন। লিটনের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন হৃদয়। দেশের ১৮তম ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হলো তার। এদিকে, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় খেলতে পারেননি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও।

লিটনের চোট নিয়ে এক ভিডিওবার্তায় জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বলেন, ‘লিটন গতকাল (শুক্রবার) ডান নিতম্বের জয়েন্টে একটা অভিযোগ করার কারণে এমআরআই করিয়েছি। এমআরআই রিপোর্টে এসেছে যে ওর একটু সমস্যা আছে। আজ (শনিবার) তারপরও একটু চেষ্টা করেছিল ফিটনেস টেস্টের, চেষ্টা করছে যে পারা যায় কি না। তো সে অ্যাভেইলেবল না। যতটুকু মানদণ্ড আছে...আমরা যতটুকু চাই, সেটিতে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এই সিরিজে তার খেলা হবে না।’

লিটন-মিরাজকে ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে (০) ফিরিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর বেন কারান (৬) ও তাফাদজা সিগাকেও (১৬) সাজঘরে ফেরান এই পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর। ধীরে ধীরে ইনিংসের হাল ধরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন তারা। দুজনের দেড় শ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। এই পথে ব্যক্তিগত অর্জনেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ৪০ বছর বয়সী টেইলর। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যান তিনি। তবে সেঞ্চুরির সুযোগ তৈরি করেও তা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ৮১ রান করে সাইফ হাসানের বলে আউট হন টেইলর। পরে অধিনায়ক রাজাকেও (৪) ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কমান সাইফ।

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে শরীফুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে অন্য ব্যাটারদের ছোট ছোট অবদানে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন নেন ৩টি এবং সাইফ ও শরীফুল নেন ২টি করে উইকেট।

২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লড়াই জমাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। যদিও উদ্বোধনী জুটিতে ঝোড়ো গতিতে রান তোলেন তানজিদ হাসান। অন্য প্রান্তে দেখেশুনে খেলেন সৌম্য সরকার। তবে অতিরিক্ত সাবধানী হতে গিয়ে ৯ রানে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৩৯ বলে ৪৭ রানের এই জুটি ভাঙার পর জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। 

তানজিদ ৩৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হলে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন নাজমুল হোসেন (৪), সাইফ হাসান (২৬), মোসাদ্দেক হোসেন (১১) ও নুরুল হাসান সোহান (৫)। এতে ১২৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ দল। শেষপর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে বাংলাদেশ ১৭২ রানে গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আগামী বুধবার শারজায়। ফাইনালে উঠতে হলে শুধু এই ম্যাচে জিতলেই হবে না, আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তান যেন বড় ব্যবধানে জয় পায়, সেই প্রার্থনাও করতে হবে।