ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ লিও ফুসফুসের ক্যান্সারের সফল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। অস্ত্রোপচারের চার দিন পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি রোমের জেমেলি হাসপাতাল থেকে ভ্যাটিকানের বাসভবনে ফিরে যান। খবর বিবিসি-এর।
পোপের বয়স বর্তমানে ৭১ বছর এবং তার ডান ফুসফুসের নিচের অংশে থাকা একটি ক্যান্সারযুক্ত টিউমার (অ্যাডেনোকার্সিনোমা) অপসারণের জন্য মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
হাসপাতাল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি সম্পূর্ণ নিজের পায়ে হেঁটে অপেক্ষমাণ গাড়িতে ওঠেন এবং বাইরে উপস্থিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে রিপোর্টে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক পাওয়ায় তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাঞ্জেলাস’ প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি আবারও তার দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখাচ্ছেন পোপ লিও। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং হাসপাতালের অস্থায়ী চ্যাপেলে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছেন। পোপের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সার্জন জানিয়েছেন, তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়াই নিজের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন।
শুক্রবার পোপের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী প্রথম ছবি প্রকাশ করে ভ্যাটিকান। ছবিতে তাকে সবুজ ধর্মীয় পোশাকে চ্যাপেলের বেদির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভ্যাটিকানের মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি জানান, পোপ নিজেই এককভাবে প্রার্থনা পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া চিকিৎসাকর্মী ও ভ্যাটিকানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের মধ্যে রুটি বিতরণ করেছেন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত হাসপাতালকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পোপ।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, পোপের এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এদিকে ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট আণবিক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য, ফুসফুসের অন্য অংশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে কি না এবং পরবর্তী সময়ে আরও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসকেরা।