আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে পাঠানো হলো বগাকে

চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে একটি চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন আসামি ওয়াকিল হোসেন বগা। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় একটি মামলা করেন চট্টগ্রাম খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাতেই রোববার আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ওয়াকিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। তিনি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ৬ অক্টোবর নগরের টাইগার পাস এলাকার নগর ভবনে ওয়াকিলের অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না; তার দুই ভাই মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এ সময় ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করেন মেয়র। পাশাপাশি খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।

ওই দিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। মামলা নেওয়ায় ওসি আবদুর রহিমকে আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে তাকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওসি।

পরে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুলিশের একটি গাড়িও। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

পুলিশের ওই অভিযানের ঘটনায় পরে ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়েছে।