‘আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম না’, আদালতে সুলতান মনসুর

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সহিংসতা ও দলটির কর্মী মকবুল হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর পুত্র সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ নির্দেশনা প্রদান করেন। উভয় আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে হাজির করে শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আদালতে শুনানির সময় গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের এই সহিংসতা ও হত্যা মামলায় সোপর্দ করার জোর দাবি জানান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনি প্রতিনিধিরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিগত রাজনৈতিক সরকারের সময় দলীয় কর্মকাণ্ড ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আসামিদের এই সুনির্দিষ্ট মামলার সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান।

শুনানিকালে বিচারকের অনুমতি নিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলার উল্লিখিত সময়টিতে তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে ছিলেন না, বরং বিরোধী রাজনৈতিক জোট গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় দেশেই ছিলেন না বলে দাবি করেন এবং নিজের সপক্ষে বিচারকের কাছে নিরপেক্ষ ও আইনি সহায়তা প্রার্থনা করেন। তবে উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশ ও বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের অভিযানে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়, যেখানে মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের শেষভাগে পল্টন থানায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ বহু সংখ্যক নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান মনসুর ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিদেশ থেকে ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একাধিক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সাবেক এমপি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে মঈনউদ্দিনকেও গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে দুজনেই এই হত্যা মামলায় কারাবাস ভোগ করছেন।