কুমিল্লায় যুবদল কর্মী হত্যা: ৫২ ঘণ্টা পর মামলা, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ 

​কুমিল্লায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আবু কাউসার (৩৮) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৫২ ঘণ্টা পর থানা মামলা হয়েছে। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকল ৩টা ৪৫ মিনিটের সময় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, যুবদল নেতা মো. আবু কাউসারের বড় ভাই কবির হোসেন রোববার বিকেলে বাদি হয়ে প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ ও তাঁর বড় ভাই তানজিরসহ  ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের নাম দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

​গতকাল শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর নূরপুর এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাঁর ভাই তানজিরকে এসআরবি-১১ গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের, আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ তুলে কোতোয়ালি মডেল থানার ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় তাঁদের কয়েকজনের হাতে ঝাড়ু ও লাঠি দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে নিহত আবু কাউসারের বড় ভাই ও মামলার বাদী কবির হোসেন অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। তিনি বলেন, আমার ভাতিজা-ভাতিজিদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। তারা অনেক কান্নাকাটি করছে। এখন আমার ভাইয়ের হত্যা মামলা নিয়ে বিভিন্ন তদবির ও তালবাহানা চলছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।

এরআগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) জমিতে রিসোর্ট করার বিরোধের জেরে আবু কাউছারকে কুপিয়ে জখম করা হয় তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিরসহ ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মাসুম নামের এক অটোরিকশাচালকও আহত হন। কাউছার নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা।

পরে কাউছারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার বিকেলে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে শতাধিক ব্যক্তি নন্দিরবাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। এতে আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। জানালার কাচসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বাড়ির সামনে থাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।