দেখতে দেখতে অনেক দিন হয়ে গেল—
আমাদের কথা হয় না। আমরা এখনো একসাথে শুই,
আমি তার এবং সে আমার বিপরীতে মুখ ফিরে।
আমরা তো দিন-রাত নিজের সাথে লড়াই করছি, লড়াই করি
নীরবতার সাথেও, ভাবতে ভাবতে চলে যাই মাইল মাইল দূরে।
প্রথম প্রথম এটা সাধারণ ঠুনকো একটা ব্যাপার ছিল, যেমন
পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কেউ কিছু বলি না,
দূর থেকে দেখি—এমনও তো হয়েছে আর একটু ঝুঁকলেই
মুখোমুখি হয়ে যেতাম—হয়তো দুজনেই লজ্জায় আছাড় খেতাম।
কিন্তু প্রতিদিন আমরা একটু একটু করে
দূরে সরে যাচ্ছি, এবং পরদিন...
আরও একটু। হয়তো আমরা বুঝতেও পারছি না
এর ইতি টানব কীভাবে...
এমন সময়ও গেছে—আমরা সারা রাত জেগে কথা বলেছি
জিপারের মতো এক হয়ে জড়িয়ে থেকেছি; কিন্তু
এখন আর সে রকম কিছু ভাবি না—প্রতিদিন
আশায় থাকি—হয়তো আগামীকাল সে আমাকে
আবার ভালোবাসবে। হয়তো বলবে,
চলো... ব্লাক কফি খেতে খেতে
মনের কালো দাগগুলো ধুয়ে ফেলি—কিন্তু
সেদিন আর আসে না—
তুমি হয়তো চেয়েছিলে কিছু, যা আমার সাধ্যে ছিল না
আমারও যে সাধ-আহ্লাদ উপচে পড়েছে তাও কিন্তু না
তবুও—দিন তো চলছিল, ভালোই চলছিল
বেড সাইড টেবিলে ফ্রেমে বাঁধা তোমার ছবি, আমার স্বপ্নগুলো
ভেঙে গেলেও, থেমে থেমে, তোমার দিকেই যেতে থাকে
আমিও যে কেমন করে ভুলে ছিলাম। কিচেনের প্লেটগুলো
শুকনো মুখে তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে।
চায়নিজ আর পিজ্জার লেফ্ট ওভারে উপচে পড়ছে
ময়লার ঝুড়ি—আর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধময় হাওয়া
ঘরে বাইরে, শরীর ও মনে। আজকাল প্রায়শ ভাবি,
সূর্যাস্তের গাঢ় রঙটা ফের কোনো দিন আকাশে ভেসে উঠবে কি?
বাড়ির পেছনে কাঁঠাল পাতায় ঝুলে থাকা জ্যোৎস্না দেখতে দেখতে
সারা রাত আমি—জেগে থাকি, একা...
হয়তো সে কোনো দিন জানবেও না