কবিতা

শৈশবকে মনে করে

শৈশবকে মনে করে এই লেখা লেখা—
মনে পড়ে বরইয়ের গাছ
তাতে শুঁয়োপোকা বিছা
এক আষাঢ়ের রাতে ওই গাছ হেলে গেল
আমাদের জানালার দিকে
আর দুশ্চিন্তা শুরু হলো আমার পিতার
কারণ ওই গাছে রাতে
কূপপাখি বসে—
ওরা মৃত্যুর পাখি
তবে আরও বড় কথা
ওই গাছ সারাদিন শিশিরে ভিজে থাকে
তাই ওর চারপাশে ঘোরা
হাঁসগুলি ভেজা 
বিড়ালেরা স্যাঁতসেঁতে
আর কুকুরগুলো দামি—বংশীয় তারা—
চিরকালই তাই ওর কাণ্ড ধরে ওরা
কাণ্ড ভেজানোর বেশি কিছু কোনো দিনও... না!
সবটাই তো দেখি নানাপ্রকার ‘না’ দিয়ে ভরা।
উদাহরণত—
বিড়ালগুলি গেছে
বিছাগুলি মৃত
কুকুরগুলি নেই
বরইগুলি হাওয়া
ডালগুলি এই এখন অন্য পৃথিবীতে
আর বিছা ঘেরা জানালাটা 
হাট করে খোলা
তবে সত্যি যদি বলি
সে জানালা নেই, কেবল মাটি আর ধুলা,
—আর কূপপাখি?
শৈশবকে মনে করে লেখা এ কবিতার মাঝে
সে এক নিরীহ পাখি বসে আছে চুপে,
যেন যে-যে মনে করল শৈশবের কথা
তাকে-তাকে ঘাড় ধরে 
একবিংশ শতাব্দীর কিনারার কাছে 
টেনে এনে
ফেলে 
দেওয়া 
হলো 
কূপে।