বগুড়ায় ২৭৯ প্রাথমিক শিক্ষকের পদায়ন উন্মুক্ত লটারিতে

বগুড়ার ১৩ উপজেলায় নবনিযুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই লটারির পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে পদায়ন নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন না ওঠে কিংবা কাউকে অন্যায়ভাবে দূরের কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন করার অভিযোগ না আসে। লটারিতে যার নামে যে বিদ্যালয় নির্ধারিত হবে, তিনি সেখানেই পদায়ন পাবেন।

তিনি আরও বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের নিজ নিজ উপজেলার বিদ্যালয়ে পদায়ন দেওয়া হবে। তবে কোনো উপজেলায় শূন্য পদ না থাকলে নীতিমালা অনুসারে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় পদায়ন করা হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বদলির সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তদবির ও অনিয়ম এড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বচ্ছ পদায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) ও জেলা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।

অনুষ্ঠানে পদায়নের সার্বিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন। তিনি জানান, মেধাতালিকার ভিত্তিতে বগুড়ায় ৩৬০ জন শিক্ষককে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৭৯ জন শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। ইতোমধ্যে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

ডিপিও জানান, লটারি পরিচালনার জন্য দুটি পৃথক বক্স রাখা হয়। একটি বক্সে শিক্ষকদের নাম এবং অন্যটিতে শূন্য পদ থাকা বিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষকের নাম ও বিদ্যালয়ের নাম তুলে তাদের পদায়ন নিশ্চিত করা হয়।

উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে পদায়ন সম্পন্ন হওয়ায় নবনিযুক্ত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, উপজেলা আইসিটি কমিটির সদস্য এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।