বগুড়ায় ১৯ ফুটের প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণ করেছে বগুড়া মহানগরের চেলোপাড়া এলাকার দুর্জয় ক্লাব। ১৯ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন প্রতিমাটি দেখতে বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের কলকাতার একটি দুর্গাপূজার প্রতিমার আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার প্রতিমাটি পরিদর্শন করেছেন।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় এবার ৭৩০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ৩২৯টি গুরুত্বপূর্ণ, ১২টি কম গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৮৩টি সাধারণ মণ্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলার মধ্যে বগুড়া সদর থানায় সর্বোচ্চ ১২১টি মণ্ডপ রয়েছে। এ ছাড়া শেরপুরে ৯৪টি, গাবতলীতে ৮৪টি, আদমদীঘিতে ৬৯টি, শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় ৬৪টি, সোনাতলায় ৫৩টি, শাজাহানপুর ও নন্দীগ্রামে ৪৮টি করে, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি, কাহালুতে ৪২টি, ধুনটে ৩৪টি এবং সারিয়াকান্দিতে ২৮টি মণ্ডপ রয়েছে।

গত বছর বগুড়ায় ৬৮০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

দুর্জয় ক্লাবের দাবি, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে তাদের নির্মিত প্রতিমাটিই সবচেয়ে বড়। গত বছরও ক্লাবটি ১৬ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণ করেছিল, যা ওই বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল বলে তাদের দাবি।

দুর্জয় ক্লাবের সভাপতি ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিমাটি নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শনিবার রাতে প্রতিমাটি পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু বগুড়া নয়, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে আসছেন। প্রতিবারই তারা ভিন্ন ধরনের আয়োজন করে থাকেন। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজা-অর্চনা চলছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বগুড়া সদরের সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া পূজা চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দল কাজ করবে। নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মোকামতলার