সরাইলে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাহার মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রাম থেকে একই গ্রামের একটি মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল শুনতে যাচ্ছিল কিশোরীটি। পথে একই গ্রামের জাকির (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মুকলেস (৩৫), আলামিন ওরফে জিকির (৪০) ও বাহার মিয়া (২২) তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে গ্রামের নদীর তীরবর্তী একটি নির্জন স্থানে জাকির, নাঈম ও সোহাগ কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য তিনজনও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ১১টার দিকে কিশোরীকে তার বাড়ির পাশে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। এ সময় কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কিশোরীর বাবা জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর তার মেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি মেয়েকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ছয়জনকে আসামি করে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক রতন কুমার ঢালী জানান, ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে আলামত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।