রাজশাহী জুড়ে উৎসবের আমেজ, আসছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তার এই সফর ঘিরে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সফরে প্রথমবারের মতো রাজশাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। এরপর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এই সফরে রাজশাহীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ ঘোষণা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর তিনি রাজশাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে বেলা তিনটার দিকে মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। জনসভায় প্রায় চার হাজার ইক্ষুচাষির মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।

মণ্ডপে মণ্ডপে ধর্মীয় আচার, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে রাজশাহীতে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উৎসব ঘিরে আনন্দে মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এরই মধ্যে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে ঘিরে উৎসবের আনন্দে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন। এটি তাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানিত করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাজশাহী ধর্মসভার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের মণ্ডপে এসে সম্মানিত করছেন। তাকে বরণ করে সম্মান জানাতে তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য কয়েক দিন আগে থেকেই নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। এই মণ্ডপে এসে প্রধানমন্ত্রী একটি গাছের চারা রোপণ করবেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জনসভা সফল করতে চলছে নানা প্রস্তুতি। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে রাজশাহীর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। এবার তিনি আসছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি বড় সমাবেশে পরিণত হবে।

তবে দলীয় আয়োজনের বাইরেও রাজশাহীর মানুষের কাছে এই সফরের গুরুত্ব রয়েছে উন্নয়ন প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে রাজশাহীর মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এদিন মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রাজশীর উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিএনপি নেতাদের আশা, সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।