দুর্গোৎসব: ​লাল-নীল আলোয় উৎসবমুখর পুরান ঢাকা

​লাল-নীল আলোর ঝলকানি, ঢাক-করতালের শব্দ এবং সাউন্ড বক্সে বাজতে থাকা গান। এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দুর্গোৎসব কে উপলক্ষ করে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারে গত তিন দিন ধরে এ উৎসব চলছে। 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের বিভিন্ন মন্দির ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। 

অলিগলির বিভিন্ন সড়কে তৈরি করা হয়েছে পূজামণ্ডপ। মণ্ডপের সামনে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা—কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে, কেউ পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখছেন দেবী দুর্গার প্রতিমা। রাস্তার পাশে বসেছে চুড়ি, ফিতা ও শিশুদের খেলনার দোকান। সব মিলিয়ে পূজাকে ঘিরে পুরান ঢাকার অলিগলিতে তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন উৎসবের আবহ।
​
কয়েকটি সড়কের ওপর পূজামণ্ডপ তৈরি হওয়ায় এবং যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা হেঁটেই এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাতায়াত করছেন। কেউ কেউ প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার কিছুক্ষণ থেমে উপভোগ করছেন পূজার আয়োজন। 

আজ দূর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। এদিন সন্ধ্যার আগেই দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপসংলগ্ন সড়কগুলো।

​স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাঁতীবাজারে পূজা দেখতে এসেছেন সজীব দেবনাথ। অনুভূতি জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনের বেলায় পূজা দেখতে বের হয়েছি। রাতে আর বাইরে থাকব না। সব মিলিয়ে বেশ ভালোই লাগছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা, অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, দেশের মঙ্গল হোক এবং দেশ সুন্দরভাবে চলুক।’ এবার ১৫-১৬টি মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে শাঁখারীবাজারের দুর্গাবাড়িতে প্রায় দেড়শ বছর ধরে পারিবারিকভাবে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। তিন-চার প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে জানিয়ে আয়োজক অঞ্জন কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, পূর্বপুরুষদের হাত ধরে শুরু হওয়া পূজার এই ধারাবাহিকতা আগামী প্রজন্মও ধরে রাখবে। পূজার সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। 

​অন্যদিকে তাঁতীবাজারে জগন্নাথদেবের মন্দিরের সামনে শিশুদের খেলনা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতা শাহজাহান। গত দুই দিন ধরে তিনি সেখানে ব্যবসা করছেন। শাহজাহান জানান, শুক্রবার বিক্রি কিছুটা ভালো হলেও পরের দিন তা কিছুটা কমেছে। তবে অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।