ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের দেশ। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ বছর পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান ও ছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার প্রতিও সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তাঁদের চাওয়ার চেয়েও বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশ ও জাতীয় পরিচয় অভিন্ন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন।
এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁরা উৎসবের শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সফল সমাপ্তি কামনা করেন।