এমবাপ্পের জোড়া, দিওমান্দের গোল-অ্যাসিস্টে উদ্ভাসিত রিয়াল

আগামী সপ্তাহে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে লা লিগায় নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ইয়ান দিওমানদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেভিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৬-এ নামিয়ে আনল কোচ হোসে মরিনহোর শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি রিয়ালের টানা তৃতীয় জয়। ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান করছে রিয়াল, যেখানে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সেভিয়া রয়েছে ৬ নম্বরে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র একাদশে না থাকলেও তার অভাব বিন্দুমাত্র বুঝতে দেননি গ্রীষ্মের দলবদলে রিয়ালে যোগ দেওয়া আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমানদে। বাম উইঙে শুরু থেকেই আলো ছড়ান তিনি। ম্যাচের শুরুর দিকে সেভিয়ার পেকের সঙ্গে একটি সংঘর্ষে লাল কার্ডের দাবি জানিয়েছিল সফরকারীরা, তবে তা নাকচ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই দিওমানদের বাড়ান পাস থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে বল সেভিয়ার ওপরের কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তুর্কি ফরোয়ার্ড আর্দা গুলের।

প্রথম গোলের পর রিয়ালের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ৩৭তম মিনিটে দেখা মেলে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার গোলমেধার। এক চোখধাঁধানো টার্নে সেভিয়ার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সেভিয়া। তবে রাইট ব্যাক হিসেবে একাদশে ফেরা ফেদে ভালভার্দে চমৎকার এক ব্লকে সেভিয়ার ফেলিক্স করেয়ার নিশ্চিত একটি গোলের প্রচেষ্টা নসাৎ করে দেন।

খেলার প্রায় ৫৮তম মিনিটে সেভিয়ার আক্রমণাত্মক কৌশলের সুযোগ নিয়ে আবার পাল্টা আক্রমণে ওঠে রিয়াল। দিওমানদের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে এমবাপ্পে বক্সে ঢুকতে গেলে সেভিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস কাস্ত্রিন তাকে ফাউল করেন। রেফারি পেনাল্টি দিলে সেখান থেকে অনায়াসে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি অর্জন করেন এমবাপ্পে।

ম্যাচের ৮০তম মিনিটে নিজের হাফে এমবাপ্পের একটি ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে সেভিয়ার হয়ে বদলি খেলোয়াড় মানু বুয়েনো এক গোল পরিশোধ করেন। তবে সেভিয়ার সেই আনন্দ স্থায়ী ছিল মাত্র দুই মিনিট। ৮২তম মিনিটে পুরো ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দিওমানদে দূর থেকে একক প্রচেষ্টায় বল টেনে নিয়ে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে সেভিয়ার জালে বল পাঠান। এক গোল ও এক অ্যাসিস্টের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াল সমর্থকদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—ভিনিসিউস জুনিয়রের অনুপস্থিতিতে বাঁ প্রান্তের মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে এখন হয়তো দিওমানদেই এগিয়ে থাকবেন।

 

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে হ্যামস্ট্রিং অস্ত্রোপচার কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস পর মাঠে ফেরেন এদের মিলিতাও, যাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান বার্নাব্যুর দর্শকরা। পরবর্তী মহারণে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ এই জয় নিশ্চয়ই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে রিয়াল শিবিরকে।