শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

যশোরের শার্শায় চম্পা খাতুন (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিষপানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় কবির হোসেনসহ দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চম্পা খাতুন ওই গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ধান্যতাড়া গ্রামের মৃত সাইফুল্লাহ গাজীর ছেলে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে প্রবাসে যান মিন্টু গাজী।

পরিবারের অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ভবানীপুর গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিন সোলেমানের ছেলে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় চার বছর ধরে চলছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কবির বিভিন্ন সময় চম্পার কাছ থেকে নগদ টাকা এবং তার প্রবাসী স্বামীর পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি চম্পাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান কবির। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চম্পা।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, ঘটনার দিন সকালে বিষপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চম্পা ফোনে বিষয়টি তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাকে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নাভারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে  চিকিৎসকেরা তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তারা মামলা করতে থানায় গেলে চম্পার শ্বশুরবাড়ির সদস্য এবং অভিযুক্ত কবিরের স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও সেদিন মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরদিন রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শার্শা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম মামলাটি করেন।

পরিবার আরও জানায়, মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করেন চম্পা। সেখানে তিনি শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিবরণ তুলে ধরেন এবং নিজের এই পরিণতির জন্য তাকে দায়ী করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভিডিওতে চম্পাকে বলতে শোনা যায়, সে আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আমার এই মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবিরই দায়ী, আর কেউ নয়।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।