পদত্যাগের ঘোষণা দিতে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে  সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

এদিন সকালেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভালো নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (পিটিআই) নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সব পরিকল্পনা যথাসময়ে দেখতে পাবেন সাংবাদিকেরা।

এর আগে সকালে (৮টা ৩৬ মিনিটে) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের কথা জানান ইশরাক ।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

এর আগে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে অস্ত্রকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় ইশরাকের মিডিয়া উইং থেকে বিষয়টি ‘গুজব’ দাবি করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। ওই সংবাদের বিষয়টিকে ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা এলো।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে। ইশরাক হোসেন তার ফেসবুক পেজে পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন। এর একটি ভিডিওতে তাকে সরাসরি অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অস্ত্র হাতে একজন প্রতিমন্ত্রীর এই ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও সমালোচনা শুরু হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ ও খেদ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির এই সদস্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বিষয়ে আরও যুক্ত করেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লেখেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব।’ নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

সম্প্রতি বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনশেড ও সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয় এবং আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য স্থাপনার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনার পর সরকারপ্রধানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর পদ ছাড়েন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।