দেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ

দেশে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। তবে এক মাসের ব্যবধানে দেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, গত আগস্টে বাংলাদেশিদের ইস্যু করা কার্ড দিয়ে বিদেশে ব্যয় হয়েছে ৯৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি কার্ডধারীরা বাংলাদেশে ব্যয় করেছেন ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয় দেশে বিদেশিদের ব্যয়ের প্রায় চার গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্ড লেনদেনবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখে। পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে মাসিক লেনদেনের অর্থমূল্য ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত আগস্টে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাস জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসে ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বড় বিপণিবিতানে। আগস্টে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা, যা দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে মোট ব্যয়ের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, পরিষেবার বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ২৮৪ কোটি এবং পোশাকের দোকানে ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

অন্যদিকে, আগস্টে বাংলাদেশিদের কার্ড দিয়ে বিদেশে মোট ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয়ের শীর্ষে ছিল ডিপার্টমেন্ট স্টোর। দেশভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ ব্যয় করেছেন বাংলাদেশি কার্ডধারীরা। এরপর থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুরে বেশি ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে বাংলাদেশে আগস্টে লেনদেন হয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা, যা জুলাইয়ের ২৩৪ কোটি টাকার চেয়ে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডধারীদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে, যার অংশ ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। বিপরীতে কার্ড ব্যবহারকারীদের কাছে পাওনা ছিল ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ডভিত্তিক লেনদেনের বিস্তার ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক। তবে নগদনির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নগদবিহীন লেনদেনের প্রসারে বাধা হয়ে রয়েছে।