দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহাপরিচালক

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকির অংশ হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং শুভেচ্ছা উপহার দেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। এ বছর পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসের’ মাধ্যমে সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানের ব্যবস্থা নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।

মহাপরিচালক জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোও আনসার-ভিডিপির নিজস্ব পর্যবেক্ষণ দলের নিবিড় তদারকিতে রয়েছে। এর মাধ্যমে সব ধরনের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, উসকানি, গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সেবায়ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ভূমিকা রাখছেন। পূজামণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, বয়স্ক দর্শনার্থীদের সহায়তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, নারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আনসার-ভিডিপির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বশীল সেবার মাধ্যমে উৎসবের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনীটি কাজ করছে।