দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনদের মারধর: চা বিক্রেতার আত্মহত্যা

যশোরের মনিরামপুরে পারিবারিক কলহের জেরে সেলিম জাহাঙ্গীর (২৪) নামের এক যুবকের মরদেহ রাজগঞ্জ ঝাঁপা বাওড়ের ভাসমান সেতুর নিকট থেকে উদ্ধার করে সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সেলিম উপজেলার খালিয়া গ্রামের আসমত আলী মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিম জাহাঙ্গীর পেশায় একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ না হলেও সেখানে যাতায়াত করতেন না সেলিম। তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।

চলতি মাসের ৪ তারিখে শার্শা উপজেলার লাউতাড়া গ্রামে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন সেলিম। ইতিমধ্যে সেলিমের প্রথম স্ত্রীর খবর দ্বিতীয় স্ত্রীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতে পারেন। গত রোববার বন্ধুর মোটরবাইক নিয়ে সেলিম শ্বশুরবাড়িতে গেলে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে তার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তারা বন্ধুর মোটরবাইকটি আটকে রাখেন।

একপর্যায়ে সেলিমের বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। তারা সেখানে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে সেলিম সেখান থেকে চলে আসেন। স্থানীয় লোকজন জানান, বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে সন্ধ্যার দিকে বিষপান করে বাওড়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সেলিম।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, সেলিমের পরিবারের সদস্যরা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে বসে বিচ্ছেদের বিষয়টি মীমাংসা করে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।