ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে বড় হারে বাংলাদেশ দল। তাতে নিজেদের আত্মবিশ্বাসে যেমন ধাক্কা লেগেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচটিকে স্রেফ একটি খারাপ দিন হিসেবে উল্লেখ করে সেটি পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে চান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগের ম্যাচে করা ভুলগুলো শুধরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ে ফেরাই এখন প্রধান লক্ষ্য ফিল সিমন্সের দলের।

বাংলাদেশ দলের এই প্রধান কোচ হারের পরও দলের খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। বরং কী ভুল হয়েছে, কোথায় উন্নতি করতে হবে, তা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন এ ক্যারিবীয়। সিমন্সের বিশ্বাস, ঘুরে দাঁড়ানোর পথটা জানা আছে দলের। গতকাল আবুধাবিতে অনুশীলন শুরু করার আগে সিমন্স বলেন, ‘ছেলেদের মধ্যে এখনো এনার্জি আছে। আজ (গতকাল) সকালের বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমাদের। কী ভালো হলো, কী ভালো হলো না এসব নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা জানি, এখন আমাদের কী করতে হবে। আমরা ভালো খেলছিলাম। এটা ছিল এমন একদিন, যেদিন কিছুই পক্ষে যায়নি। জানি এখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। আমরা পরের খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের বড় ঘাটতি কোথায় ছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান কোচ। তার মতে, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী খেলার ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সিমন্স, ‘সঠিক মুহূর্ত বুঝতে না পারাই ছিল গত ম্যাচের ঘাটতি। পরিস্থিতি অনুযায়ী, খেলতে পারিনি। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে, ওয়ানডে ম্যাচে ৫০ ওভার যেন ব্যাট করতে পারি।’

একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ১৯ ম্যাচে জেতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ২০২২ সালের পর চিত্র বদলে গেছে। সর্বশেষ সাত ওয়ানডেতে পাঁচবারই জয় পেয়েছেন সিকান্দার রাজারা। আবুধাবিতে সর্বশেষ ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হার সেই হতাশা আরও বাড়িয়েছে। দলের এমন ভরাডুবি মাঠে বসে দেখেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। এরপর ম্যাচ শেষে দলের ড্রেসিংরুমে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন তিনি। সেখানে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলেই জানা যায়।

সে বৈঠকে দলের সদস্যদের প্রতি কী বার্তা ছিল তামিমের? বিসিবি সভাপতি মূলত কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বলে দাবি করেন সিমন্স, ‘তামিমের বার্তা ছিল এটাই— কঠোর পরিশ্রম করতে থাকো। আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, কোটি কোটি মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছি এটা মাথায় রেখ। সবাই আমাদের সাফল্য দেখতে মুখিয়ে আছে। ওর কাছ থেকে মূলত এ বার্তাটাই ছিল।’

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে এবার তাওহীদ হৃদয়রা লড়বেন শারজায়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এ ভেন্যুটিতে রেকর্ড সুখকর নয় বাংলাদেশের জন্য। আগের আট ওয়েনডেতে জয় মাত্র একটিতে। শারজার মাঠে খেলতে নামার আগে অবশ্য সেখানকার কন্ডিশনে অনুশীলনের খুব বেশি সুযোগ পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরল সিমন্সের কণ্ঠে, ‘শারজাও একই রকম। শারজার মাঠে অনুশীলন করতে পারলে ভালো হতো। এটা তো আমাদের হাতে নেই। আমরা আমাদের মতো অনুশীলন করে যাচ্ছি।’

তবে একটি স্বস্তির খবর মিলেছে। অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের ম্যাচের জন্য তাকে প্রস্তুত করে তোলার আশা করছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ, ‘মিরাজকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে। গত কিছু দিন সংগ্রাম করছিল। আজ (গতকাল) ও আগামীকাল (আজ) আরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ আছে। আশা করি পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।’