১৪৮ দিন পর জয়ের মুখ দেখল টটেনহ্যাম 

চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জয় কী জিনিস, যেন ভুলেই বসেছিল টটেনহ্যাম হটস্পার। চরম অনিশ্চয়তা আর পয়েন্ট তালিকার তলানিতে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় যখন ক্লাবটি জর্জরিত, ঠিক তখনই মিলল পরম কাঙ্ক্ষিত সেই স্বস্তি। ঘরের মাঠে গতকাল রাতে কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ১৪৮ দিন পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জয়ের মুখ দেখেছে রবার্তো ডি জেরবির দল।

দীর্ঘ সময় পর চোট কাটিয়ে মূল একাদশে ফেরা জেমস ম্যাডিসনের চোখধাঁধানো গোল, ওমর মারমুশের বিতর্কিত হলেও দৃষ্টিনন্দন স্ট্রাইক এবং শেষ মুহূর্তে বেন ডেভিসের লক্ষ্যভেদে এই মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল স্পার্সরা।

ইংল্যান্ডের শীর্ষ ৯২টি ক্লাবের মধ্যে একমাত্র দল হিসেবে চলতি মৌসুমে জয়ের দেখা পেতে বেশ ধুঁকতে হয়েছিল উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটিকে। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানি থেকে ১৬ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম, আর কভেন্ট্রি নেমে গেছে ঠিক এক ধাপ নিচে (১৭তম)। 

গত মৌসুমে রেলিগেশনের শঙ্কা এড়ানোর পর এবার কোচ রবার্তো ডি জেরবির অধীনে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে দলবদলে ৩০০ মিলিয়নের বেশি পাউন্ড বা প্রায় ৪১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে ক্লাবটি। বিশাল এই ব্যয়ের পর মাঠেও অবশেষে উন্নতির ছাপ দেখতে পেল সমর্থকরা।

ম্যাচে শুরু থেকেই কভেন্ট্রির রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে বেশ ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। তবে ২৫ মিনিটে গ্যালারি মাতিয়ে তোলেন দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ম্যাডিসন। ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার বাঁকানো শটে কভেন্ট্রির জাল কাঁপান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। ২০২৫ সালের মে মাসের পর মূল দলে এটিই ছিল ম্যাডিসনের প্রথম গোল। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরে কভেন্ট্রি। জ্যাক রুদোনির গোল স্তব্ধ করে দেয় টটেনহ্যাম সমর্থকদের।

তবে ধাক্কা সামলে উঠতে খুব বেশি সময় নেয়নি ডি জেরবির শিষ্যরা। ৫৯ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক জোরালো শটে টটেনহ্যামকে আবার এগিয়ে দেন। যদিও গোলটি নিয়ে কভেন্ট্রি শিবিরের তীব্র ক্ষোভ ছিল; কভেন্ট্রির ডিফেন্ডার মিলান ভ্যান এউইককে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং ভিএআর-ও তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। এরপর যোগ করা সময়ে বদলি নামা ডেভিস দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করলে জয় নিশ্চিত হয় টটেনহ্যামের।

ম্যাচটিতে টটেনহ্যামের জন্য জয়ের আনন্দের চেয়েও বড় প্রাপ্তি ছিল দলের লম্বা চোট তালিকার বড় নামগুলোর ফেরা। ম্যাচের সবচেয়ে বড় উল্লাসটি দেখা যায় যখন দীর্ঘ ৫২৬ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুইডিশ উইঙ্গার দেজান কুলুসেভস্কি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বস্তি প্রকাশ করে টটেনহ্যাম কোচ ডি জেরবি সরাসরি বলেন, ‘আমরা এই ফলে খুবই আনন্দিত। অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় আমরা আজ অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি। আমাদের জন্য এই জয়টি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ 

দলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ইয়ান পল ভ্যান হেকির কণ্ঠেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে জয়ের স্বস্তি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আজ আমাদের জিততেই হতো এবং আজই ছিল সেই দিন। আশা করি এখান থেকে আমরা নিজেদের আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারব। কভেন্ট্রির নিচু ব্লকের রক্ষণের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ ছিল না, আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছে।’ 

প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের সবশেষ জয়টি ছিল গত ২৪ মে এভারটনের বিপক্ষে। এতে দিনের হিসেবে তারা ১৪৮ দিন পর দেখল জয়ের মুখ। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্পার্সদের সামনে। আগামী শনিবার চেলসির বিপক্ষে কঠিন এক অ্যাওয়ে ম্যাচের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।