শাহজাদপুরে ৭০ স্কুলে খেলার মাঠ নেই, এক মাঠে বসে হাট

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় ২২৪ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে খেলার মাঠ নেই। এ কারণে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠ না থাকায় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণেও পিছিয়ে পড়ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, শাহজাদপুরের ১৩ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। পৌর এলাকার চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও মাঠের সংকট রয়েছে।

খেলার মাঠ না থাকায় প্রতিযোগিতার আগে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাবে প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে পারছে না তারা। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভালো ফল করলেও তা ধরে রাখতে পারছে না।

এদিকে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাষ কাদাই বাদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট বসছে। উপজেলা পরিষদ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের মাঠে বসা হাটটি ইজারা দিলেও বিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো টাকা জমা হয় না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির হিল্টন।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হলেও সেখান থেকে স্কুলের তহবিলে কোনো অর্থ জমা হয় না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কেউ অবগত নন। তিনি যোগদানের অনেক আগে থেকেই মাঠে হাট বসছে।

শাহজাদপুর পৌর সদরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহিম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও মাঠসংকটে রয়েছে।

কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজা খাতুন জানান, মাঠ না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই অ্যাসেম্বলি করতে হয়।

শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আল-মাহমুদ জানান, শত বছরের পুরনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও খেলাধুলায় পিছিয়ে রয়েছে। মাঠ না থাকায় জাতীয় দিবস ও আন্তবিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও ভালো ফল করা সম্ভব হচ্ছে না।

তারা জানান, বিদ্যালয়ের কাছেই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে। সেখানে সরকারের ফাঁকা জমি আছে, যা স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে উদ্যোগ নিতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক পাপ্পু জানান, যেসব বিদ্যালয়ে এখনো খেলার মাঠ নেই, সেসব বিদ্যালয়ের মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগী হতে হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা প্রয়োজন। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা দরকার।

এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, স্কুলের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। তার উপজেলায় টেন্ডার আহ্বান করে বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসানো হচ্ছে-বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।