পর্যাপ্ত ড্রেজিংয়ের অভাবে নাব্যতা সংকটে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌরুটে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে ফেরি কপোতাক্ষের নির্ধারিত সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই কারণে গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর সি-ট্রাক 'এসটি নিঝুম দ্বীপ'। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ও সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ফেরি ও সি-ট্রাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ রুটে এসব নৌযান ছাড়া যাত্রী পারাপারের অন্য কোনো নৌযান চলাচল করে না। ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে গুপ্তছড়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়। তবে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, একটি সরকারি ড্রেজার দিয়ে ধীরগতিতে খননকাজ চালানো হচ্ছে। এতে নাব্যতা সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
নিরাপদ যাত্রী আন্দোলনের নেতা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যাপ্ত ও সময়মতো ড্রেজিং না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নৌরুট সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগে থেকেই নেওয়া উচিত ছিল।’
আল আমিন নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ‘একটি ড্রেজার দিয়ে লোকদেখানো কাজ চলছে। খননকাজের অগ্রগতি খুবই কম। প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা জোয়ারের সময় পাওয়া গেলেও খননকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না করায় ভাটার সময় গুপ্তছড়া ঘাটে নৌযান নোঙর করার স্থানে পানি থাকে না বললেই চলে। ভরা জোয়ারেও সেখানে পানির গভীরতা থাকে মাত্র ৮ থেকে ৯ ফুট। ফলে গত বেশ কিছুদিন ধরে জোয়ারের ওপর নির্ভর করেই নৌযানগুলো চলাচল করছিল। সম্প্রতি জোয়ারের উচ্চতা কমে যাওয়ায় পানির গভীরতা নৌযান চলাচলের জন্য অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাব্যতা সংকটের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা আগেই বিভিন্ন ফোরামে জানিয়েছিলেন সি-ট্রাক ও ফেরি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরপরও ড্রেজিং কার্যক্রমে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এ রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সি-ট্রাকের ক্যাপ্টেন ইকরামুজ্জামান বলেন, ‘যেখানে আমরা নৌযান নোঙর করি, সেখানে গত ফেব্রুয়ারিতে ভাটার সময়ও পানির গভীরতা ছিল ৯ থেকে ১০ ফুট। আর এখন ভাটার সময় জায়গাটি খেলার মাঠে পরিণত হয়।’
তিনি জানান, সি-ট্রাক চলাচলের জন্য পানির গভীরতা সর্বনিম্ন সাড়ে আট ফুট প্রয়োজন। ফেরির ক্ষেত্রে এর চেয়ে এক-দুই ফুট কম গভীরতা হলেও চলাচল সম্ভব। তবে প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় বর্তমানে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা খন্দকারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী রিসাদ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নাব্যতা স্বাভাবিক করতে শক্তিশালী বেসরকারি ড্রেজার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আপাতত সরকারি ড্রেজার দিয়ে কাজ চলছে, প্রাকৃতিক কারণে খননে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।’