হিমালয় পর্বতমালা হলো পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ, দীর্ঘতম এবং উচ্চতম ভঙ্গিল পর্বত। এটি তৈরি হয়েছে ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের বিশাল টেকটনিক প্লেটের সরাসরি সংঘর্ষের কারণে। প্রায় ২২ কোটি বছর আগে বর্তমান হিমালয় অঞ্চলের জায়গায় ‘টেথিস’ নামে বিশাল সমুদ্র ছিল। ভারতের উপদ্বীপটি তখন অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি আলাদা ভূখণ্ড। কোটি কোটি বছর ধরে ভূত্বকীয় পাতের সঞ্চালনের কারণে ভারতীয় প্লেট, ধীরে ধীরে উত্তরে এশিয়ার দিকে এগোতে শুরু করে। দুটি প্লেট প্রায় সমান ঘনত্বের হওয়ায়, কোনোটি অন্যটির নিচে সম্পূর্ণ দেবে যেতে পারেনি। ফলে মাঝখানের টেথিস সাগরের তলদেশের পলিরাশি, প্রচণ্ড চাপে কোণঠাসা হয়ে ওপরের দিকে ভাঁজ খেয়ে উঁচু পর্বতমালায় রূপ নেয়। ভারতীয় প্লেটটি প্রতি বছর উত্তর দিকে এগোচ্ছে। এই অব্যাহত চাপের কারণে হিমালয়ের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্বতটি নেপাল, চীন, পাকিস্তান, ভুটান এবং ভারতের সীমানা ঘিরে রয়েছে। কাশ্মীর অঞ্চলে পর্বতমালার সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। পর্বতমালাটি ২৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। হিমালয়ের উত্থান শুধু মনোমুগ্ধকর ভূ-দৃশ্যকে গড়ে তোলেনি, বরং সুবিস্তৃত অঞ্চলের আবহাওয়া এবং জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করেছে। এর বিচিত্র ভূমিরূপ অদ্ভুত বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছে। সবুজ বনভূমি থেকে শুরু করে আরও উচ্চতায় গেলে শুষ্ক অঞ্চলসহ সব রয়েছে এখানে। এর মধ্যে রয়েছে তুষার চিতা, লাল পান্ডা, কালো ভালুক, লঙ্গুর, মাস্ক ডিয়ারসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।