রাজশাহীতে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

গোয়েন্দা তথ্য আছে দুই পক্ষ এক হয়েছে

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের তথ্য আছে। আপনারা দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এ দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে; আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

জনগণ তাদের টিকিট খায় না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের তো কিছু যায় আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী ৫ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল যারা একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন। জনসভা মঞ্চে বসে তিনি ল্যাপটপের বাটন চেপে কৃষকদের এই প্রণোদনা কার্যক্রমের সূচনা করেন।  কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে এ টাকা পৌঁছে যায়। পরে তিনি দেশের ১৫ কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলকে আরও শয্যা বৃদ্ধির  দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জনগণের নির্বাচিত বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানযোগে রংপুরের সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কর্মসূচি শেষ করে রাজশাহী যান তিনি। এরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঐতিহাহিসক জেএম সেন হলে পূজাম-প পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তারা একইভাবে সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সমবণ্টনের মাধ্যমে দেশের সব এলাকার সমান উন্নয়ন করতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরের ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সরকার যারা ভোট দিয়েছেন, তাদেরও; যারা ভোট দেননি, তাদেরও। এই সরকার সবার। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সমবণ্টনের মাধ্যমে দেশের সব এলাকার সমান উন্নয়ন করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি রংপুর মহানগরের উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট ও সড়ক উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন। এসব কাজ করতে হলে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার যখন ঐক্যের ডাক দিয়েছে, তখন একটি মহল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা সফল হয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে দুপুর ১২টার পর ধর্মসভা মন্দিরের পূজাম-পে পৌঁছে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন তিনি। পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নে আরও উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকারকে নির্দেশনা দেন।

এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানযোগে রংপুরের সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কর্মসূচি শেষ করে রাজশাহী যান তিনি। এরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঐতিহাহিসক জেএম সেন হলে পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব পরিতোষ চক্রবর্তীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাজশাহী ও চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং রংপুর প্রতিনিধি।