বিজয়া দশমী আজ মন্ডপে মন্ডপে বিদায়ের সুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উদযাপিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মহানবমী বিহিত পূজার্চনা, ব্রতোপবাস, যজ্ঞ, পুষ্পাঞ্জলিসহ নানা আয়োজনে মহানবমী উদযাপিত হয়। ঢাকের বোল, উলুধ্বনি, শঙ্খ এবং কাঁসরের তালে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। গতকাল মহানবমীতে পূজামন্ডপে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিন পূজার্চনা ও আরাধনার পাশাপাশি আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে দেবীর বিদায়ের আবহ শুরু হয়। আজ বুধবার হবে বিজয়া দশমী। সকালে দেবীর দর্পণ বিসর্জন, বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা।

দশমীর আয়োজন সম্পর্কে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত তপন ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দর্পণ বিসর্জন হবে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে এ আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। দুপুর ১২টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি হবে। বিকেল ৩টায় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি সদরঘাটে যাবে এবং সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।’

ভক্তদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘পাঁচ দিনের ছুটি থাকায় এবার ভক্তদের সমাগম কম হবে বলে ধারণা করেছিলাম। কিন্তু ভক্তদের উপস্থিতি কমেনি, বরং বেড়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ভক্তদের সুবিধার জন্য প্রসাদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

গতকাল সকালে খামারবাড়ি, রমনা কালীমন্দির ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নবমীর পূজা উপলক্ষে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে দেবী দর্শনে আসেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং মঙ্গল প্রার্থনা জানান।

মহানবমীর ধর্মীয় তাৎপর্য ও আয়োজনের বিষয়ে তপন ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে মহানবমীর বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর দিনভর ভক্তদের দফায় দফায় পুষ্পাঞ্জলি ও আরাধনার ব্যবস্থা রাখা হয়। দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে ভোগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।’

রাজধানীর খামারবাড়ি পূজামন্ডপে মহানবমীর পূজা দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন প্রদীপ কুমার সাহা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহানবমীতে খুব সুন্দর পরিবেশ দেখে ভালো লাগছে। মায়ের কাছে দেশ ও বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনা করেছি। পৃথিবীর সব মানুষ ও প্রাণী যেন সুখে-শান্তিতে থাকে এবং সব ধরনের সংঘাত থেকে মুক্ত থাকে, সেই প্রার্থনা করেছি। তার স্ত্রী প্রীতি রানী সাহা বলেন, ‘সব মিলিয়ে ভালোভাবে পূজা উদযাপন করেছি। ঘুরেছি, ভালো লেগেছে।’

গত ১০ অক্টোবর মহালয়ায় দেবীকে আবাহনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন ও দেবীপক্ষ শুরু হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীতে বেলতলায় (বিল্ববৃক্ষ) পূজার পর দেবীকে আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গত শনিবার ও রবিবার এ দুদিন মহাসপ্তমী, সোমবার মহাষ্টমী ও মঙ্গলবার মহানবমী উদযাপিত হয়। আজ বুধবার বিজয়া দশমী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের (কেন্দ্রীয় কমিটি) সভাপতি বাসুদেব ধর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশজুড়ে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব মানুষ যেন সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারে। দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির এই বার্তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুকএটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মন্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামন্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত আছে।