সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরেদের খবর ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ছড়িয়ে পড়া নারীর ছবিটি সুইটি আক্তারের। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বলে জানা গেছে। বিএমইটি কার্ডের সূত্র ধরে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালি গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং ভিসার কপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ওই এলাকার ফজল মিয়ার কনিষ্ঠ সন্তান বলে জানা গেছে। যদিও স্থানীয় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ সংক্রান্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
এদিকে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের কথা জানতেন না সুইটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সুইটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। শিরেদ কার্যকরের ঠিক আগের দিন গত ১৩ অক্টোবর সুইটি জেলখানা থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন বলে জানান। অথচ পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার সময়ও সুইটি তার মৃত্যুদন্ডের কথা জানতেন না।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান সুইটি। দেশটির মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। সৌদিতে পৌঁছানোর ছয় মাস পর গ্রেপ্তার হন তিনি। তবে গ্রেপ্তারের এক বছর পর সুইটি মোবাইল ফোনে তার গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি পরিবারকে জানান। পরিবারকে কারণ হিসেবে মারামারির ঘটনার কথা বললেও সুইটির অপর এক বান্ধবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, সুইটি সেখানে একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এদিকে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যের মাধ্যমে সুইটির মৃত্যুদন্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হতে উদ্বিগ্ন অবস্থায় সময় পার করছেন তার বাবা-মা। তাদের দাবি, সুইটির মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক হলেও তাকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। আর নির্বাক বাবা তাকিয়ে আছেন মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিরেদের খবর তাদের মনে তৈরি করেছে গভীর শঙ্কা। সুইটি বেঁচে আছেন, নাকি তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ কিছু এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার।
সুইটির বাবা ফজলু মিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর সকালে আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন সুইটি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক মাধ্যমে শিরেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। এখন মেয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য খবরের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তার মা-বাবা।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুইটি শিরেদের শিকার হয়েছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে তথ্য সংগ্রহের জন্য সুইটিদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুরের ইউএনও জহিরুল আলম বলেন, অফিসিয়ালি এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।