জাপানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ২৭ নভেম্বর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রসার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চারদিনের এ সরকারি সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকা ত্যাগ করবেন। ঢাকা ও টোকিও থেকে গতকাল মঙ্গলবার একই সঙ্গে সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। কয়টি চুক্তি সই হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তিন-চারটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে নবায়ণযোগ্য জ¦ালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি সহায়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ¦ালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানো এবং বাংলাদেশে দেশটির সহায়তায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমানো নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ সফরের ফলে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত করার পাশাপাশি নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরের ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সফরকালে এই চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিওতে ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তার খসড়া সফরসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের  (জেট্রো) প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, একটি পারমাণবিক কেন্দ্র এবং নাগোয়ায় টয়োটার উৎপাদন প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ অন্যদের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরশেষে প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৯ অক্টোবর দেশের উদ্দেশে জাপান ত্যাগের কথা রয়েছে।