৪০ শট ও ৬ গোলের থ্রিলারে বার্সাকে চূর্ণ করল পিএসজি

পিএসজি ৪ : ২ বার্সেলোনা (দুয়ে ৩৮’, হার্নান্দেজ ৭২’, ভিতিনহা ৮১’, রুইস ৮৬’ — এস্পার্ত ৫৫’, ইয়ামাল ৭৯’)

গোলমুখে অবিশ্বাস্য ৪০ শটের সাক্ষী থাকা রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে স্প্যানিশ হেভিওয়েট বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন-জার্মেই (পিএসজি)। টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো হারের তিক্ত স্বাদ পেল হানসি ফ্লিকের শিষ্যরা।

থমথমে পরিবেশ আর সাম্প্রতিক নাগরিক উত্তেজনার আবহে ছায়াঘেরা প্যারিসকে এক নিমিষেই ভুলিয়ে দিয়েছে পার্ক দে প্রাঁসের ঝলমলে আলো। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে রচিত হয়েছে এক নতুন ক্ল্যাসিক।

ম্যাচ জুড়ে গোলের জন্য আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের খড়্গ নামলেও দুই শিবিরকেই পোড়াবে চোটের ধাক্কা। খেলার ১৯তম মিনিটে হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন পিএসজির ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। প্রথমার্ধেই একই ভাগ্য বরণ করে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সেলোনা তারকা দানি ওলমোকেও। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে পিএসজির জর্জিয়ান উইঙ্গার খুভিচা কোভারাতশেলিয়াও খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনীভূত হয়। বিশেষ করে রবিবারের ‘এল ক্ল্যাসিকো’র আগে খেলোয়াড়দের এই চোট বার্সা শিবিরের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

শুরু থেকেই চালকের আসনে থাকা পিএসজি প্রথম সাফল্য পায় ৩৮তম মিনিটে। বার্সা ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের এক ভুল ক্লিয়ারেন্স নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত পাস বাড়ান জোয়াও নেভেস। বক্সে ঢুকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ক্যাটালান রক্ষণকে বোকা বানিয়ে দূরপাল্লার নিচু শটে দলকে এগিয়ে নেন দেজিরে দুয়ে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। পিএসজির রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার কামানের মতো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার শাবি এস্পার্ত। এটি ইউরোপীয় মঞ্চে এই উদীয়মান কাতালানেট প্রথম গোল। তবে সমতার স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি বার্সার। ৭২তম মিনিটে নিখুঁত এক কর্নার থেকে চোখধাঁধানো বুলেট হেডে পিএসজিকে আবারও ২-১ লিড এনে দেন লুকাস হার্নান্দেজ।

ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট পরিণত হয় চরম নাটকীয়তায়। ৭৯তম মিনিটে দুরুহ কোন থেকে অসাধারণ এক চিপ শটে বার্সেলোনাকে ২-২ সমতায় ফিরিয়ে অলৌকিক কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তরুণ তুর্কি ইয়ামাল।

কিন্তু পিএসজি যে সেদিন অন্য ধাতুতে গড়া! মাত্র দুই মিনিট পরই (৮১ মিনিট) বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক প্রথম স্পর্শের শটে ৩-২ করেন ভিতিনহা। আর ৮৬তম মিনিটে চতুর ফিনিশিংয়ে ক্যাটালানদের প্রত্যাবর্তনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফ্যাবিয়ান রুইস।

 

ম্যাচ শেষে বার্সা ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন স্পষ্ট করেই স্বীকার করে নেন, "শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের বিচারে পিএসজিই জয় পাওয়ার যোগ্য ছিল।"

মাঝমাঠে রদ্রিকে নামিয়েও হানসি ফ্লিক যে ফাটল রোধ করতে পারেননি, সেই সুযোগে প্যারিসিয়ানদের দুরন্ত গতি ও অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবল আরও একবার ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিজেদের দাপট প্রমাণ করল।