পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান রূপপুরে পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে ঢাকা থেকে সড়ক পথে কন্টেইনার বোঝাই চারটি গাড়ি প্রকল্প অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
এসময় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িগুলো ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নেওয়া হয়। এজন্য ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কে সকাল ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান নিয়ে আসা হয়। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমান যোগে ইউরেনিয়াম হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসে পৌঁছায়। এরপর সড়ক পথে রূপপুরের উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রওনা হয়ে সকাল ১০টার সময় প্রকল্পের অভ্যন্তরে এসে পৌঁছায়।
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর প্রবেশ করলে বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা দু’দেশের জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে স্বাগত জানান।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের এই চালান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি আনা সম্ভব হয়নি। পরে এ জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচি অনুযায়ী ২ অক্টোবর জ্বালানিটি দেশে আনা হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
এর আগে ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।