কুমিল্লার লাকসামে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেশ পৌনে ৫টার দিকে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের পূর্বাঞ্চলের ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় আজগরা এলাকায় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। তবে ঠিক কি কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। এ জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বল হয়।
লাকসাম রেলওয়ে জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে আসে। নাওটি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল না। স্টেশনের আউটার সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এ সময় ট্রেনটির ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটিতে প্রায় ১০টি বগি ছিল।
ট্রেনের যাত্রী জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি শুরু করলে কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনায় রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বগি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। দ্রুত রেললাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার পর ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর বলেন, ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।