ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিওর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। মুম্বাইয়ে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বৈঠকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন দুই শীর্ষ কূটনীতিক। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বৈঠকের বিষয়ে মার্কো রুবিও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিতে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বৈঠকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে রুবিওর তিন দিনের সরকারি সফরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারত একটি চুক্তি করতে চায় এবং দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। চুক্তিটি ‘অনেক ভিন্ন ধরনের’ হতে পারে বললেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে। চুক্তির অল্প কয়েকটি বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি। সেগুলোও শিগগির সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে, যা নিয়ে টানা দুই মাস আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এরপরও ভারতের বৃহত্তম জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মস্কো (সেপ্টেম্বরে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো)। বৈশ্বিক পরিসরে রাশিয়ার জ্বালানির শীর্ষ ক্রেতা চীন এবং এরপরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। এর আগে গত জুলাই মাসে ভারত মোট আমদানির প্রায় ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে এনে রেকর্ড গড়েছিল, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল না কিনতে ওয়াশিংটনের নানামুখী চাপ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রক্রিয়াজাত তেল রপ্তানি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত ধরে রেখেছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মস্কোবান্ধব অবস্থান সত্ত্বেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পর তেল আমদানিতে ভারতের রুশনির্ভরতা কতটা কমবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।