ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বিদেশি নেতাদের কিছু মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও মূর্খতাপূর্ণ’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। কাতার সফরকালে বুধবার (২১ অক্টোবর) দোহায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন নেতা ফ্রান্সের এই পরিস্থিতির জন্য দেশটির উন্মুক্ত অভিবাসন নীতি এবং ইসলামপন্থিদের দায়ী করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘এটি শিক্ষার সমস্যা নয়, এটি অভিবাসনের সমস্যা’ এবং ফ্রান্স খুব শীঘ্রই একটি 'মুসলিম নগরী'তে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগয়ারও এই সহিংসতার জন্য শিথিল অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেন।
ম্যাক্রোঁ অভিবাসী ও ইসলামপন্থিদের কারণে দেশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা এই নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ছড়াচ্ছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি কিছু ভুয়া ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবে ফ্রান্সে কখনোই ঘটেনি। কিছু বিদেশি নেতা না বুঝেই সেই কৃত্রিম কনটেন্ট বিশ্বাস করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
বিশ্লেষক এবং আন্দোলনকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের এই অস্থিরতার মূল কারণ অভিবাসন নয়। মূলত স্কুলে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার নাজুক পরিবেশ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের কঠোর বাজেট-কাটছাঁট নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই বিক্ষোভ শুরু করে, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়।
ম্যাক্রোঁ দৃঢ়তার সাথে জানান যে, সংকটের এই সময়ে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য অন্য কোনো দেশের ফরাসিদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।