বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ সেরা হওয়া অস্ট্রেলিয়া পেসার নিষিদ্ধ

বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে বল হাতে একাই তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়া নারী দলে পেসার মেগান শুট। ৩ ম্যাচে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ-সেরার পুরস্কার জেতার পরপরই এবার চরম দুঃসংবাদ পেলেন ৩৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার। মাঠের বাইরের ওষুধসংক্রান্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। 

প্রতিযোগিতার বাইরে থাকাকালে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রিকেট বোর্ডের কড়া স্পোর্টস মেডিসিন নির্দেশিকা অমান্য করায় এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হলো তাকে।

অবশ্য এই ওষুধটি কোনো ধরনের পারফরম্যান্স বর্ধক ওষুধ ছিল না এবং এটি যে কোনো অ্যাথলেটের বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ছিল না, তা স্পষ্ট করেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সাধারণ প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার বৈধ হলেও তা ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে, যা অফ-পিরিয়ডে মেনে চলতে ব্যর্থ হন শুট। 

তবে এই ঘটনার তদন্ত চলাকালেই বাংলাদেশের বিপক্ষে পুরো সিরিজে অংশ নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি এবং নারী বিগ ব্যাশ লিগে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অজি পেসারের এই শাস্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রেসক্রিপশনের ওষুধসংক্রান্ত স্পোর্টস সাইন্স এবং স্পোর্টস মেডিসিন নির্দেশিকার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতার বাইরের সময়ে ঘটে যাওয়া একটি একক বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করা ছিল না।’ 

নিজের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য কোনো অজুহাত না দেখিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া শাস্তি সানন্দে মাথা পেতে নিয়েছেন শুট। এক বিবৃতিতে নিজের অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রদত্ত শাস্তি আমি সম্পূর্ণভাবে মেনে নিচ্ছি এবং আমার কাছ থেকে প্রত্যাশিত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বিনীত ক্ষমা চাইছি। এই ঘটনাটির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং একইসঙ্গে সবার কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’ 

পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবে যে কোনো অবস্থাতেই সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে একই বিবৃতিতে অজি এই মিডিয়াম পেসার আরও যোগ করেন, ‘যদিও ঘটনাটি প্রতিযোগিতার বাইরে ঘটেছে এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না, তাও আমি বুঝি যে স্পোর্টস সাইন্স অ্যান্ড স্পোর্টস মেডিসিন গাইডলাইন অনুসরণ করার মূল দায়িত্ব আমারই। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা নিয়মিত এ বিষয়ে শিক্ষা পাই এবং নির্দেশিকাগুলো আমার পুরোপুরি মেনে চলা উচিত ছিল।’ 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ২৪৪টি ম্যাচ। সেখানে তার মোট উইকেট সংখ্যা ৩১৯। যার মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১২৫ ম্যাচে ১৫২ নিয়ে অজিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারীর তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি।