দুর্গাপূজার ছুটি ও কার্নিভালে পর্যটকের ঢল কুয়াকাটায়

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো। বেড়েছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততা। তবে পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতির মধ্যেও কোনো কোনো হোটেলে কক্ষের বুকিং নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। আবার অনেকে সৈকতের বালুকাবেলায় ঘুরে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। ছুটির আমেজ ও কার্নিভাল ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি থাকলেও বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্রের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কোনো কোনো হোটেলে কয়েক দিনের জন্য শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে, আবার কোনো দিন বুকিং তুলনামূলক কম।

হোটেল ডি'মোরের পরিচালক জয়নুল আবেদিন জুয়েল বলেন, ‘তাদের হোটেলে মোট ৫৭টি কক্ষ রয়েছে। ২১ ও ২২ অক্টোবর সব কক্ষ বুকিং থাকলেও ২৩ অক্টোবর বুকিং রয়েছে ৫০ শতাংশ। তবে ২৪ অক্টোবর কোনো বুকিং নেই।’

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক এমজি মোর্শেদ খান বলেন, ‘তাদের রিসোর্টে মোট ৪৩টি কক্ষ রয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষের শতভাগ বুকিং রয়েছে।’

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বিশেষ করে রাখাইন পল্লী মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনির পহলান বলেন, ‘কুয়াকাটায় তিন হাজারের বেশি দোকানপাট রয়েছে। বর্তমানে সব ব্যবসায়ী ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যটন কার্নিভাল ও ছুটিকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা, খাবার এবং বিভিন্ন পর্যটনসেবার চাহিদা বেড়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন পর্যটক লায়লা শিরিন। তিনি বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। সমুদ্রের ঢেউ, বিশাল সৈকত ও মনোরম পরিবেশ পরিবারের সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরতে এসে কার্নিভালের আমেজও উপভোগ করতে পারছেন তাঁরা। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় খাবারের মান, যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়েও আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

খুলনা থেকে আসা পর্যটক সাব্বির হোসেন বলেন, ছুটির সময় আনন্দময় করতে কুয়াকাটায় এসেছেন তিনি। এখানে এসে তার অনেক ভালো লাগছে। সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কার্নিভাল ঘিরে তৈরি হওয়া উৎসবমুখর পরিবেশ ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করেছে। পর্যটকদের জন্য ভালো সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সাশ্রয়ী খরচ নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটায় আরও বেশি মানুষ বেড়াতে আসবেন বলে মনে করেন তিনি।

কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য। উৎসবের ছুটির সঙ্গে কার্নিভালের আমেজ যুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের থাকার ধারণক্ষমতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তাদের অনেকেই সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে ফিরে যাচ্ছেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, ‘পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।