ভারতের আসাম রাজ্যের ‘মায়ং’ গ্রামকে বিশে^র ভয়ংকর ‘জাদু নগরী’ বলা হয় । মরিগাঁও জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত এটি ‘কালা জাদুর ভূমি’ হিসেবে পরিচিত। বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা রহস্যময় কালা জাদু, তন্ত্র-মন্ত্র এবং অলৌকিক ঘটনার কারণে অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রচলিত আছে, মায়ং-এর প্রাচীন তান্ত্রিকরা জাদুবলে মানুষকে বাঘ, বিড়াল বা অন্য পশুতে রূপান্তর করতে পারতেন। লোককাহিনি অনুসারে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বা নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য গ্রামের জাদুকররা অদৃশ্য হতে পারতেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানকে অবিশ্বাস করে, এখানে কেবল মন্ত্র পড়ে পিঠে ব্যথার জন্য তামা বা কাঁসার থালা আটকে দেওয়া হতো। হারানো জিনিস খুঁজে বের করার মতো জাদুকরী চর্চা এখনো করা হয়। কথিত আছে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি রাজা রামসিংহ যখন আসাম আক্রমণ করতে যান, তখন মায়ং-এর জাদুকরদের কবলে পড়ে পুরো সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাস বলে, আধুনিক যুগের পূর্বপর্যন্ত শক্তি সাধনার ক্ষেত্রে নরবলি প্রথা প্রচলিত ছিল এখানে। মহাভারতে অঞ্চলটির উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেকের মতে, মহাভারতের যুদ্ধে ঘটোৎকচ এখান থেকে মায়াবিদ্যা ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন। সম্প্রতি খননকার্যে তরবারি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানব-বলিদানে ব্যবহৃত অস্ত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। মায়ং সেন্ট্রাল মিউজিয়ামে ত্রয়োদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে কালো জাদুর প্রাচীন পুঁথি, তান্ত্রিক সামগ্রী এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।