মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দরে জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর জেটিতে প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় ৫০ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। সোয়া ৪টার দিকে তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন তারেক রহমান।

এর আগে হেলিকপ্টারে বসে সুন্দরবন দর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট, ত্রিকোণ আইল্যান্ডসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহরকারী হেলিকপ্টারটি। হেলিকপ্টারের শব্দ সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতির জন্য অনুকূল না হওয়ায় তারেক রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সুন্দরবনের কোথাও অবতরণ করেনি বলে জানান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এরপর সরকারপ্রধান সাগরপথে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে যান। সেখান থেকে নৌপথে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আসেন মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে। এখানে তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস আবু বকর পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে নৌঘাঁটিতে অবস্থান করেন। এরপর বিকেলে মোংলা বন্দরের মূল জেটি এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বন্দরের পণ্য খালাস প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে তিনি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এলাকা ঘুরে দেখেন। সম্পূর্ণ সরকারি সফর হওয়ায় তারেক রহমান এ সফরে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকে অংশ নেননি তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলো পুরোদমে বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে মোংলাকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক গতির সঞ্চার হবে।

মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক।