অনর্থক মোবাইল ব্যবহার ও সময়ের আমানত

মোবাইল ফোন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও তথ্য সংগ্রহের কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস অনেকের জীবনে সমস্যা তৈরি করছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানো এবং উদ্দেশ্যহীন ভিডিও দেখার বিষয়টি এখন পরিচিত দৃশ্য। এতে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ইবাদত, পড়াশোনা, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্ক। ইসলাম সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছে।

মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ ফিরে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু চলে যাওয়া সময় ফিরিয়ে আনা যায় না। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী পড়তে বসে মোবাইলে একটি ভিডিও দেখলেন। ভিডিওটি দেখার পর আরেকটি ভিডিও চালু করলেন। এভাবে এক ঘণ্টা কেটে গেল। পরে পড়াশোনা শেষ করার জন্য তাকে রাত জাগতে হলো। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হলো, ঘুমের সময়ও কমে গেল। একইভাবে একজন চাকরিজীবী কাজের ফাঁকে বারবার সামাজিক মাধ্যম দেখার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারলেন না। এমন অভ্যাস ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসেও নিজ নিজ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের কথা হয় না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও আন্তরিক কথোপকথন কমে যায়। অথচ পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সময় দেওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা জরুরি।

ইসলামে মানুষের জীবন ও সময়কে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হলো সুস্থতা ও অবসর।’ (সহিহ বুখারি)

এই হাদিসে সুস্থতা ও অবসরের যথাযথ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। মানুষ অনেক সময় সুস্থতা ও অবসরকে মূল্য দেয় না। অসুস্থ হলে কিংবা ব্যস্ততা বেড়ে গেলে সময়ের অভাব অনুভব করে। অথচ সুস্থ অবস্থায় এবং অবসর সময়ে ভালো কাজ করার সুযোগ থাকে।