রিয়াল মাদ্রিদের জয়, বায়ার্ন-আর্সেনালের ড্র

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’র প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সারল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে টানা ৪৫ ম্যাচে গোল করার ঐতিহাসিক রেকর্ডও গড়েছেন ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় হ্যারি কেইনের নতুন রেকর্ডের রাতে বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের দ্বৈরথটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলের সমতায়।

তবে ইউরোপসেরার মঞ্চে রাতের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে ইতালিতে, যেখানে নবাগত কোমোর কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বড় ধরনের বিপদে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেস ফ্যাব্রেগাসের শিষ্যদের কাছে এই লজ্জাজনক হারের পর রেড ডেভিলদের দলে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ম্যাচ শেষে কোচ মাইকেল ক্যারিকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে অধিনায়কের তোপ, সব মিলিয়ে ইউনাইটেড ড্রেসিংরুমের বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট।

বার্নাব্যুতে রিয়ালের গোলবন্যা ও নতুন রেকর্ড : লাইপজিগকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শতভাগ সাফল্য ধরে রাখল রিয়াল। ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের দারুণ শুরুর বিপরীতে থিবো কোর্তোয়ার দুর্দান্ত কিছু সেভে রক্ষা পান লস ব্লাঙ্কোসরা। সেখানে বিরতির ঠিক আগে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা বার্নার্দো সিলভার রিয়ালের হয়ে প্রথম গোলে লিড নেন স্বাগতিকরা। আর এই গোলের মাধ্যমেই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে টানা ৪৫ ম্যাচে গোল করার এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ে রিয়াল।

দ্বিতীয় অর্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরদা গুলের ও বদলি নেমে তাক লাগিয়ে দেওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দের গোলের সুবাদে বড় জয় নিশ্চিত করে হোসে মরিনহোর দল। এই ম্যাচে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ২৬টি অ্যাসিস্টের মালিক হয়ে কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানকে স্পর্শ করেছেন।

তবে দলের এমন জয়ের রাতেও ঘরের সমর্থকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। ইতিবাচক বার্তায় ম্যাচশেষে কোচ মরিনহো ও সতীর্থ এমবাপ্পে অবশ্য ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে জয়, আলোচনা-সমালোচনার এই মিশেলের মধ্যেই আগামী রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ‘এল ক্লাসিকো’র আগে এ জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেইনের রেকর্ডের রাতে আর্সেনালের বীরত্বপূর্ণ ড্র : বায়ার্ন ও আর্সেনালের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ইউরোপের অন্যতম হাইভোল্টেজ এক ট্যাকটিক্যাল লড়াই। সেখানে ম্যাচের শুরুতেই ঊরুর চোটে অধিনায়ক বুকায়ো সাকাকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খান গানাররা। তবে ২৫ মিনিটে এবেরেচি এজের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় অতিথি দল। এরপর হ্যারি কেইনের চেনা রূপ দেখে ফের কাঁপন ধরে আর্সেনাল শিবিরে। পেনাল্টি থেকে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে টানা ১০ ম্যাচে গোলের কীর্তি গড়েন কেইন, যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক কদম দূরে। সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে কোনো এক নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে টানা সব মৌসুমে (২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪) গোল করার বিরল এক কীর্তি গড়লেন এই ইংলিশ তারকা।

কেইন ও আলফনসো ডেভিসদের নৈপুণ্যে বায়ার্ন যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন ডেকলান রাইস। ম্যাচের ৮২ মিনিটে বক্সের কোণ থেকে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে বায়ার্নের জয় ছিনিয়ে নেন এ ইংলিশ মিডফিল্ডার।

কোমোর কাছে ইউনাইটেডের চরম লজ্জা : একদিকে যখন রিয়াল ও আর্সেনাল দাপট দেখাচ্ছে, অন্যদিকে ইতালীয় ক্লাব কোমোর বিপক্ষে ৪-১ গোলের শোচনীয় হারে গভীর খাদের কিনারায় চলে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেস ফ্যাব্রেগাসের কোচিংয়ে খেলা নবাগত এই ক্লাবটির বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই অসহায় ছিলেন রেড ডেভিলরা। আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজের জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মাইকেল ক্যারিকের ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা। চলতি মৌসুমে শেষে ৭ ম্যাচে জয়হীন থাকা ইউনাইটেডের এই পারফরম্যান্স ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম হতাশাজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ম্যাচশেষে ড্রেসিংরুমের অন্তর্দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে আসে। কোচিং স্টাফদের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তে দলের কৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন অধিনায়ক ব্রুনো। ‘টিএনটি স্পোর্টস’কে দেওয়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ম্যান টু ম্যান প্রেস না করে একটু পেছনে জায়গা ছেড়ে দিয়ে বল পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্তটি ছিল কোচিং স্টাফদের। কিন্তু আপনি যখন এ ধরনের দলগুলোকে বেশি জায়গা ছেড়ে দেবেন, তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।’

অন্যদিকে নিজের ভুল স্বীকার করে ম্যাচশেষে সফরকারী ৭০০ সমর্থকের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চান কোচ ক্যারিক। ২০২১ সালে ওলে গানার সুলশারের বরখাস্তের ঠিক আগের মুহূর্তগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তাই তো ডাগআউটে ক্যারিক আর কতদিন টিকবেন এটাই এখন ইউনাইটেড ড্রেসিংরুমের বড় আলোচনা।